চেক জালিয়াতি ও বেনামি কোম্পানির নামে অর্থ আত্মসাৎ- বাপেক্স কর্মকর্তাদের দুর্নীতি

গ্যাসকূপ খননকাজে মালপত্র সরবরাহকারী হিসেবে যে প্রতিষ্ঠানকে দেখানো হয়েছে তা ভুয়া। টাকাও উত্তোলন করা হয়েছে ভুয়া ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে। এছাড়া বিলের বিপরীতে ইস্যুকৃত চেকের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে ডিডি, পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা করা হয়েছে মালপত্র সরবরাহকারী ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে। অর্থ আত্মসাতের এ ঘটনা ঘটেছে বাপেক্সেরই কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতায়। বাপেক্সের নিজস্ব তদন্তেই প্রতিষ্ঠানটির ছয় কর্মকর্তার দুর্নীতির এ তথ্য উঠে এসেছে।

অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তা হলেন— মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প পরিচালক মো. শাহাবউদ্দিন, উপব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. হাদিউজ্জামান, ব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) নুসরাত সিদ্দিক, উপমহাব্যবস্থাপক (খনন) জামাল ও রেজাউল করিম এবং উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মনির হোসেন। কোম্পানির ফেঞ্চুগঞ্জ-৪ ও ৫ এবং সালদা-৩ ও ৪ নম্বর গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন প্রকল্পে এ দুর্নীতি করেছেন তারা।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এ ছয় কর্মকর্তাকে কেন বরখাস্ত করা হবে না, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার কারণ দর্শাতে বলা হয়। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানো না হলে বরখাস্তের কথাও বলা হয়। যদিও নোটিস পাওয়ার দেড় বছর পরও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অভিযুক্তদের রক্ষায় বাপেক্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ আছে।

জানতে চাইলে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম রুহুল ইসলাম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বাপেক্সের সর্বোচ্চ অথরিটির মাধ্যমে সর্বশেষ বোর্ডসভায় শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাকিদের বাপেক্সের নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে।